গল্প : পদ্মাবতী...... ৬ষ্ঠ এবং শেষ পর্ব, লেখক : Aminul Islam......!

সেদিন বিকালে আর পদ্মাবতীদের বাসায় যাওয়া
হয়নি।তবে ফোনে অল্প কিছু কথা হয়েছিল।
ঠিক যখন তাদের বাসায় যাওয়ার জন্য বের হবো,তখনি
বাসা থেকে ফোন আসলো বাবুর মা ভিষণ অসুস্থ।
এখুনি বাসায় যেতে হবে।বাবুর মা আমাকেও অনেক
ভালবাসে ,কোন দিনও বাবুর চেয়ে আলাদা চোখে
দেখেনি।কিছু না ভেবেই বাসায় চলে আসলাম।
প্রায় এক সপ্তাহ ছিলাম বাসায়।আন্টি এখন একটু সুস্থ ।
বাবু মারা যাবার পর একদম ভেঙ্গে পড়েছে।ঐ একটাই
ছেলে ছিল তাদের।তবে একটা মেয়ে আছে,এবার হয়তো
এস,এস,সি পরীক্ষা দেবে।
.
দেখতে দেখতে এক সপ্তাহ চলে গেছে,পদ্মাবতীর
সাথে বেশী যোগাযোগ করতে পারিনি।ভিষণ ব্যস্ত
ছিলাম,আর তার ফোনও বন্ধ ছিল।
বেশ ভাল ভাবেই রাজশাহীতে আসলাম।অনেক দিন
ক্লাস করা হয়নি,আবার পদ্মাবতীর সাথেও দেখা
হয়নি।মেয়েটা না যানি আমার ওপর কত রেগে আছে।
কাল ক্লাস শেষ করে একবার তাকে দেখতে যাবো।
.
আজকেও সে ভার্সিটিতে আসেনি,
রুমে আসছি মাত্র,হঠাৎ একজন বললো,আমাকে বাহিরে
কেউ ডাকছে।
সালাম দিয়ে বললাম,
আঙ্কেল, আন্টি কেমন আছেন? আসুন ভেতরে আসুন।
ভাল আছি,তুমি কেমন আছো?
হ্যা ভাল আছি।কিন্তুু তাদের মুখ দেখে মনে হচ্ছে
কোন সমস্যা হয়েছে।
আঙ্কেল পদ্মাবতী আসেনি?
না,আসলে ও একটু অসুস্থ।
তাছাড়া সে কেমন যেন পরিবর্তন হয়ে গেছে,ঠিক মত
খায় না,ঘুমায় না।আবার ভারর্সিটিতে ও যায় না।
সারাক্ষণ শুধু দরজা বন্ধ করে বসে থাকে।আমাদের
সাথেও ঠিক মত কথা বলে না!
কি হয়েছে কিছুই বুঝতে পারছি না।আমরা ছাড়াও ভাল
ডাক্তার দেখিয়েছি,কিন্তুু তারা কোন সমস্যাই ধরতে
পারে না।
মেয়েটা দিন দিন করমন যেন শুকিয়ে যাচ্ছে ,প্লিজ
তুমি আমাদের সাথে একটু চলো।তোমার সাথে তো ও
সব কথাই শেয়ার করে।
ঠিক আছে চলুন তাহলে ,আর এমনিতেও আমি আজ
আপনাদের বাসায় যেতে চেয়েছিলাম।
.
তাদের গাড়িতে করেই রওনা হলাম।আসার সময়
পদ্মাবতীর জন্য কিছু লাল আর সাদা গোলাপ ফুল
কিনলাম।পদ্মফুল কোথাও পেলামা না,মেয়েটা এ
ফুলটাও বেশ পছন্দ করে।
তাদের বাসার ভেতরে এসেই দেখলাম সেই আগের মত
পরিবেশটা আর নেই।কেমন যেন নিস্তেজ হয়ে আছে সব
কিছু।
.
আন্টি কোথায় পদ্মাবতী ?
দেখ হয়তো তার রুমে থাকতে পারে।
রুমের ভেতরে গেলাম,এই রুমে আমি এর আগেও এসেছি।
কিন্তুু আজ সব কিছু কেমন যেন অগোছালো মনে হচ্ছে।
হঠাৎ বিছানার ওপর চোখ যেতেই দেখলাম একটা
ডাইরি ,এটা দেখতেও বেশ সুন্দর। কিন্তুু সে রুমে নেই।
কিছু না ভেবেই ডাইরিটা হতে নিলাম।
ডাইরির প্রায় প্রতিটা পাতায় পাতায় আমার নাম
লেখা।আরও কত অজানা স্বপ্নের কথা সেখানে লেখা।
শেষ পৃষ্ঠাতে যা দেখলাম,
.
"আমিনুল সেই প্রথম যেদিন আমি তোমার পাশে
বসেছিলাম ঠিক সেই দিন থেকেই আমার মনের ভেতর
তোমাকে জায়গা দিয়েছি।তোমাকে নিয়ে হাজারো
অজানা স্বপ্ন দেখি।তোমাকে নিয়ে সারাটা জীবন
বাঁচতে চাই।জানি তুমি আর আমি দুজন দুই ধর্মাবলম্বী।
কিন্তুু মনের অজান্তেই আমি তোমাকে ভালবেসে
ফেলেছি।কিন্তুু বলতে পারিনি,ভিষণ ভয় হয় যদি
তোমাকে হারিয়ে ফেলি"
তার লেখাটা পড়ে আমার চোখ দিয়ে পানি
আসছে,মেয়েটা আমাকে এতটা ভালবাসে? আর আমি
সেটা বুঝতেই পারিনি।হঠাৎ মনে হলো আকাশে বিকট
শব্দ হলো,মেঘের গর্জন।হয়তো বৃষ্টি আসবে।
আমি বাস্তবে ফিরে এলাম,
কিন্তুু পদ্মাবতী কোথায়?
নিশ্চই বাসার ছাদে বৃষ্টিতে ভিজছে।সে আমায়
বলেছিল যখন দার মন খারাপ থাকে তখন সে বাসার
ছাদে বৃষ্টিতে ভিজে।
আমি আর দেরি করতে পারলাম না,ফুল গুলো নিয়ে
বাসার ছাদে আসলাম।
.
বৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে।ঐ তো পদ্মাবতী দাড়িয়ে বৃষ্টিতে
ভিজছে।আজ সে নীল শাড়ি পরে আছে,মনে হচ্ছে কোন
মেঘ বালিকা আকাশ থেকে নেমে এসেছে।বৃষ্টি
ভেজা নীল শাড়িতে তাকে সত্যি আমার স্বপ্নের
নীল পরীর মত লাগছে।তার সামনে গিয়ে ফুলগুলো তার
সামনে ধরে বললাম,
"পদ্মাবতী আমি তোমাকে ভালবাসি,আমি
সারাজীবন তোমার পাশে থাকতে চাই"।
আমি কথা গুলো বলছিলাম কাঁদছিলো,
সে ফুলগুলো নিয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরলো।সে আমার
বুকে মাথা রেখেছে।
আমিও তাকে জরিয়ে ধরলাম।
সে কাঁদছে,কাঁন্না করুক,তার মনের সব দুঃখ কষ্টগুলো
বৃষ্টির জলের সাথে মিশে যাক।
তুমি আমাকে এত ভালোবাসো আগে বলোনি কেন?
কি করবো বলো,ভয় ছিল, যদি তুমি আমাকে ছেড়ে চলে
যাও।
আরে পাগলি না,আমিও তোমায় অনেক ভালবাসি।শুধু
দেখলাম আমাকে তুমি কতটা ভালোবাসো।
তাই দুষ্টু কোথাকার, যাও তোমার সাথে কোন কথা
নেই।
এই শোননা,প্লিজ রাগ করে না।রাগ করলে কিন্তুু
তোমায় আরও সুন্দর লাগবে।
তাই দুষ্টু কোথাকার,
বলেই সে দৌড়ে ঘরে চলে গেলো।
.
আমরা সেদিন প্রায় ঘন্টাখানেক সময় ছাদে বৃষ্টিতে
ভিজিছিলাম।আঙ্কেল, আন্টিকে বলে সেদিনের মত
চলে আসলাম।পদ্মাবতীকে বলে আসলাম।
সব কিছু ভালই চলছে,
আমি আর পদ্মাবতী আজ আবারও সেই জায়গাতে ঘুরতে
এসেছি,যেখানে আমাদের প্রথম দেখা হয়েছিল।
শুধু তাই নয় এখানেই সেদিন আমাদের গাড়ি দুর্ঘনা
ঘটেছিল।
সেই গাড়িটা এখন পরে আছে,আমি গাড়ির ভেতরে
প্রবেশ করলাম।যদিও কষ্ট হচ্ছিল,
হ্যা মনে পরেছে এটাই তো সেই সিট, যেখানে আমি
আর বাবু বসে ছিলাম।কথাটা মনে হতেই মাথাটা ঘুরে
পরে গেলাম।তার পর আর কিছু মনে নেই....।
.
প্রায় দু ঘন্টা পর নিজেকে হাসপাতালে আবিষ্কার
করলাম।
পদ্মাবতী আমার পাশে বসে আছে।কিছু লোকের
সাহায্যে সে গাড়িতে করে আমাকে হাসপাতালে
নিয়ে এসেছে।
একটু পরেই আঙ্কেল আরা আন্টি চল আসলো,
এখন কেমন আছো,
জ্বি ভালো।
তুমি যেহেতু বাবুকে ভুলতে পারছোনা,তাই বলছিলাম
হোস্টেলে ছেড়ে আমাদের বাসায় চলে আসো।সবার
সাথে ভাল থাকতে পারবে।
আমরা তো ব্যস্ত থাকি।
তাছাড়া পদ্মাবতী আছে, তোমরা দুজনেই ভাল
থাকবে।
তার পর আর হোষ্টেলে থাকা হয়নি।
.
দেখতে দেখতে তিন বছর চলেগোলো।আমি এখন
পদ্মাবতীদের বাসাতেই থাকি।আমাদের ভালবাসা
আগের মতই চলছে।
যদিও মাঝে মাঝে আমাদের মধ্যে কিছুটা মান
অভিমান হতো।পরে সব ঠিত হয়ে যেতো।
একদিন ভারর্সিটি থেকে বাসায় আসলাম,সাথে
পদ্মাবতীও আছে।
দেখলাম বাসায় অনেক লোক এসেছে।পরে জানতে
পারলাম পদ্মাবতীর বিয়ের কথা চলছে।কথাটা শুনতেই
আকাশ থেকে পরলাম।কি করবো কিছুই বুঝতে পারছি
না।সে দিনের মত তারা শুধু তাকে দেখে চলে
গেলো,তাকে পছন্দ করেছে।কেনই বা করবে না, সে তো
অসম্ভব সুন্দর।
.
রুমে বসে ভাবছি,আমরা দু জন দুই ধর্মাবলম্বী তাহলে
এটা কিভাবে সম্ভব?
হঠাৎ শুনলাম পদ্মাবতী কাঁদছে,
আঙ্কেল আমাকে ডাকছেন?
হ্যা,এখানে এসো,
বাবা আমি আমিনুলকে ভালবাসি,আমি ওকে ছাড়া
বাঁচবো না।আমি তাকেই বিয়ে করতে চাই
( পদ্মাবতী)।
কথাগুলো সে কাঁদছে আর বলছে।
তুমিও কি তাকে ভালোবাসো ( আঙ্কেল) ?
কি বলবো ঠিক বুঝতে পারছি না,মেয়েটা আমার মুখের
দিকে অসহায়ের মত তাকিয়ে আছে।
হ্যা, আমি পদ্মাবতীকে ভালবাসি।
কথাটা বলার সাথে সাথেই আঙ্কেল চুপ হয়ে গেলেন।
দেখে মনে হচ্ছে তিনি খুব রাগ করেছেন।
কথাটা তুমি আগে আমাকে বলোনি কেন (আঙ্কেল)?
আর দেখ তোমরা দু জন দুই ধর্মাবলম্বী, তাহলে
কিভাবে সম্ভব?
আমি কিছুই বলছি না,পদ্মাবতীও চুপ।
তবে আন্টি আঙ্কেলকে বুঝালেন,
আমাদের যা হওয়ার হবে, একটাই তো মেয়ে।সে যদি
আমিনুলকে ভালবেসে সুখে থাকতে পারে,তাছাড়া
আমিনুল কে পাশে পেয়ে সে এখন মনমরা হয়ে থাকে
না।তুমি ওদের সম্পর্কটা মেনে নাও প্লিজ( আন্টি)।
আগে শুনেছিলাম,কিন্তুু আজ নিজের চোখে দেখলাম
মেয়েদের মন কতটা কোমল।
ঠিক আছে তুমিও যখন বলছো,সমাজে আমাদের যা
হবার হবে।কিন্তুু মেয়েটা সুখে থাক(আঙ্কেল)।
তোমার বাবাকে একদিন আসতে বলো, তোমাদের
বিষয়ে কথা বলবো।
একথা বলেই তারা ভেতরে চলেগেলেন।
.
পদ্মাবতী কাঁদতে কাঁদতে এসে আমাকে জরিয়ে
ধরলো।
এই পাগলি কাঁদছো কেন?
তারা তো তোমার আর আমার সম্পর্কের কথা মেনে
নিয়েছে।একটু হাসো এখন ......।
.
সব কিছু ভালই চলছিলো,বাবা এসে আমাদের বিয়ের
কথা পাকা করে গেছেন।আর এক সপ্তাহ পরেই
আমাদের বিয়ে।
আজ আমি একাই ভারর্সিটিতে এসেছি কিছুদিন পর
পরীক্ষা। পদ্মাবতীর শরীরটা ভাল নেই তাই সে আজ
আসে নি।আমি ক্লাস করছি,হঠাৎ ফোন,
হ্যালো আমিনু এখুনি হাসপাতালে চলে
এসো,পদ্মাবতীকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছি
(আন্টি)।
আমি তারাতারি হাসপাতালে গেলাম,বাবাকেও
ফোন করেছি আসছে।
সবাই কাঁদছে,কি হয়েছে আন্টি কাঁদছেন কেন?
ভেতরে এসেই দেখলাম পদ্মাবতীর মুখে অক্সিজেন
দেওয়া।আমি কাছে যেতেই সে আমার সাখে কথা
বলতে চাইলো,
.
আমিনুল তুমি আমাকে ক্ষমা করে দিও,আমি হয়তো আর
বাঁচবোনা।আমি কথা দিয়েছিলাম সারা জিবন
তোমার পাশে থাকবো,কিন্তুু তা পারলাম না।এই
পৃথীবির নিয়তি তা হতে দিল না।শেষ বারের মত
আমাকে তোমার বুকে একটু জায়গা দেবে? আমি একটু
শান্তিতে ঘুমতে চাই।
তাকে জরিয়ে ধরে বললাম,
তোমার কিছু হবে না,আমি তোমাকে মরতে দেব না।
আর সময় নেই,আমাকে একটু শক্ত করে জরিয়ে ধরো।তুমি
নতুন করে জীবন শুরু করো,আমাকে ক্ষমা করে দিও।
কথা গুলো বলেই পদ্মাবতী মারা যায়।যার সাথে
আমার কিছুদিন পরেই বিয়ের কথা ছিল।
সে আমাকে নতুন করে জীবন শুরু করতে বলেছিল,কিন্তুু
আমি তো তাকে কথা দিয়েছিলাম কোন দিন তাকে
ছেড়ে যাবো না।তাই আজও তাকেই ভালবাসি।তার
স্মৃতিগুলো নিয়ে আজও বেঁচে আছি,আমি এখনও বিয়ে
করিনি।কারণ আমার তো পদ্মাবতীর সাথে বিয়ে
হওয়ার কথা।
আমি এখন পদ্মাবতীর ঘরেই থাকি, মাঝে মাঝে তার
কবরের পাশে যাই।তার স্মৃতি নিয়েই আছি।মাঝে
মাঝে সে আমার কাছে আসে,আমরা অনেক গল্প করি।
দেখতে দেখতে বেশ কয়েক বছর হয়ে গেছে,এই তো
আমিও আর কিছু দিন পরেই পদ্মাবতীর কাছে চলে
যাবো।সেখানেই না হয় আমারা দুজন দু জনকে জনম ভর
ভালবাসবো।
পদ্মাবতী অপেক্ষায় থেকো আমি আসছি তোমার
কাছে,আমিও তোমার বুকে একটু শেষ ঘুম ঘুমাতে
চাই......।
.
সমাপ্ত......
.
( বি : দ্র : গল্পটা কাল্পনিক)।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url