□ চুল কেন পাকে?
বুড়ো হয়ে গেলে মানুষের চুল পেকে যায়। অথবা কথাটা
বরং এভাবে বললেই বেশী ঠিক শোনায় যে, চুল
পাকলেই মানুষ বুড়ো হয়ে যায়।
চুল পাকার সঙ্গে বয়সের কী সম্পর্ক অথবা, চুল কেন
পেকে যায় ইত্যাদি বিষয়েই জানবো আজ আমরা।
সব কিছুর আগে আমাদের জানতে হবে চুল জিনিসটা
তৈরি হয় কী দিয়ে?
আমাদের মাথায় যত চুল আছে শুধু সেগুলোই নয়
আমাদের শরীরের অন্য লোমগুলোও গঠিত হয় প্রোটিন
দিয়ে। একদম সরলভাবে প্রোটিনকে বলা হয়
অ্যামাইনো এসিড। এটি প্রোটিনের গঠণের একক।
চুলের মটামুটি ৯১ শতাংশ অংশই এই অ্যামাইনো
এসিডের দীর্ঘ শিকলের মতো বাঁধন দিয়ে গঠিত হয়।
এক অনু অ্যামাইনো এসিড আরেক অনু অ্যামাইনো
এসিডের সঙ্গে অখন বন্ধন তৈরি করে এই বন্ধনের নাম
পেপটাইড বন্ধন। আর অনেকগুলো অ্যামাইনো এসিডের
এই লম্বা শিকলটির নাম হলো পলিপেপটাইড শিকল।
আপাত দৃষ্টিতে প্রোটিনের রঙ সাদা। সরল প্রোটিন
বা অ্যামাইনো এসিডের বাধনের রঙও সাদা। উদাহরণ
সরূপ আমরা একটা ডিম কল্পনা করতে পারি। ডিমের
বেশিরভাগ অংশ সাদা। বাকি অংশের রঙের জন্য
আসলে অন্য উপাদান দায়ী। এদিকে মাংস বা মাছ
প্রোটিন হয়েও সাদা নয় কারণ এতে প্রচুর পরিমাণের
রক্ত জমা থাকে। রক্তে থাকা হিমোগ্লোবিনের
ক্ষুদ্রতম অংশ লৌহ, লৌহের রং লাল তাই মাংসকে
লাল দেখায়।
তো আমরা যা বলছিলাম। সরল প্রোটিন খালি চোখে
দেখতে ফ্যাকাসে বা সাদা রঙের হওয়ার কথা। কিন্তু
চুল দেখতে মোটেই সাদা দেখায় না বরং চুলকে
প্রাকৃতিকভাবেই লাল, কালো, মেরুন কমলা ইত্যাদি
নানান রঙের দেখা যায়। এর কোনোটাই আসলে চুলের
রং না। এ রঙগুলোর উৎস চুল নয়।
আমাদের দেহের ত্বকে কিছু রঞ্জক পদার্থ থাকে।
যেমন গাছের ত্বকে থাকে, যেগুলোর কারণে গাছের রঙ
সবুজ ফুলের রঙ নীল হলুদ লাল হয় ঠিক সেরকম। মানুষের
শরীরেরও কিছু রঞ্জক পদার্থ থাকে। এগুলোর নাম
মেলালিন, কেরোটিন। এইসব রঞ্জক পদার্থের বিভন্ন
অনুপাতে মিশ্রণের ফলে মানুষের গায়ের এবং চুলের
রঙ বিভিন্ন হয়ে থাকে।
আমাদের চুলের গোড়ায় এইসব রঞ্জক পদার্থ তৈরি হয়।
যা নতুন চুলের সঙ্গে মিশে চুলকে রঙ দেয়।
মানুষ যখন বয়সের সঙ্গে বুড়ো হয়ে যেতে থাকে তখন
আস্তে আস্তে শরীর এইসব মেলালিন, কেরোটিনের
মতো রঞ্জক উপাদানগুলো উৎপাদন কমিয়ে দেয়। তখন
একটা দুইটা করে চুল পাকা শুরু করে।
চুল পাকাটা কিন্তু কোনোদিন একদিন দুইদিনে হয় না।
ধরো আজ যদি কেউ একটা বা দুইটা পাকা চুল খুঁজে পায়
তাহলে তার মাথার সব চুল সাদা হয়ে যেতে প্রায় দশ
বছর মতো সময় লাগতে পারে।
কখনও কখনুও বিশেষ কোনো অসুখ বা অসুধের কারণেই
চুল পাকতে পারে। তবে সেটা সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়।