ফেসবুকের রূপকথার কাহিনী !!!
সে অনেক আগের কথা । এক
দেশে ছিল এক রাজকন্যা । নাম
তার চম্পাকলি । তার
ভ্যারিফায়েড ফেসবুক
পেজে ছিল লাখ লাখ ফলোয়ার ।
তার সেলফিগুলোতে ছিল
হাজার হাজার লাইক । মানুষের
লাইক
পেয়ে রাজকন্যা চম্পাকলির
দিনগুলো ভালোই কাটছিল ।
একদিন রাজকন্যার
জন্মদিনে রাজামশাই
তাকে একটা আইফোন সিক্স প্লাস
উপহার দিলেন । রাজকন্যা তারপর
ডাকফেস করে বেশ
কয়েকটি সেলফি তুলল ।
সেলফি তুলে সেটা ফেসবুকে আপলোড
করতে গিয়ে দেখল, আইডিতে লগ–
ইন ফেইলড !
প্রযুক্তিবিদরা ঘাঁটাঘাঁটি করে দেখে রাজকন্যার
আইডি হ্যাক করেছে মায়াপুরীর
এক 'ব্ল্যাক হ্যাট রাক্ষস'
আইডি হ্যাক করেই পাজি রাক্ষস
রাজকন্যার আইডি থেকে পোস্ট
করতে লাগল আজেবাজে সব
স্ট্যাটাস ।
রাজকন্যার সেকি দুঃখ ! মনের
দুঃখে তার সোনার অঙ্গ
কালি হয়ে গেল ! মুখে তার
খাবার রোচে না ! মেয়ের এমন
কষ্ট দেখে রাজামশাই
ঘোষণা করলেন, ‘যে রাজকন্যার
আইডি রিকভার
করে দিতে পারবে, তার সঙ্গেই
রাজকন্যা চম্পাকলির বিয়ে দেব
।
সঙ্গে আমার রাজ্যের অর্ধেকও
লিখে দেওয়া হবে তাকে ।’
ঘোষণা শুনে সাত সমুদ্র
তেরো নদী পাড়ি দিয়ে,
ময়ূরপঙ্খি ঘোড়ায় চড়ে এল
শান্তিপুরের রাজপুত্র ডালিম
কুমার । প্রযুক্তিতে ডালিম
কুমারের ছিল অগাধ জ্ঞান ।
'ব্ল্যাক হ্যাট রাক্ষস' আর হোয়াইট
হ্যাট ডালিম কুমারের মাঝে শুরু
হলো সাইবার যুদ্ধ ! ভয়াবহ যুদ্ধ ।
টুজি নেটওয়ার্কের আওতায়
থাকা রাজকুমার রাক্ষসের
সঙ্গে পেরে উঠছিল
না বলে রাজামশাই
রাজ্যে আধুনিক
থ্রিজি নেটওয়ার্ক চালু করলেন ।
অবশেষে ডালিম কুমার
রাক্ষসকে পরাজিত
করে রাজকন্যা চম্পাকলির
আইডি রিকভার করে ফেলল । আর
রাক্ষসকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
দেওয়া হলো সাইবার ক্রাইমের
আইনে দোষী চিহ্নিত করে ।
রাজা তাঁর কথা রাখলেন । ধুমধাম
করে রাজকন্যা চম্পাকলির
বিয়ে দিলেন রাজপুত্র ডালিম
কুমারের সঙ্গে । সেই
বিয়েতে রাজ্যের
সবাইকে নিমন্ত্রণ
করা হলো ফেসবুকে একটা ইভেন্ট
পেজ খুলে । সবাই
বিয়ে খেয়ে ঢেকুর
তুলতে তুলতে সেলফিও তুলল ।
ফেসবুকে আপলোড করল, আর লিখল,
‘ইটিং রাজকন্যার বিয়ে,
ফিলিং প্রাউড!’ অতঃপর
তারা সুখে–শান্তিতে বসবাস
করতে লাগল !