যাকে "দ্বিতীয় ওমর " বলা হয় সেই ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ রহমাতুল্লাহি আলাইহি এক জানাজাতে ছিলেন। লাশ কবরস্হানে নেয়া হলো
। সাথে গেলেন
ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ। তিনি বিষণ্ন। এক জায়গায়
নিরালায় বসে আছেন। গভীর চিন্তায় মগ্ন।
.
একজন মানুষ, কাছে এলেন। জিজ্ঞেস করলেন -
"হে আমাদের খলিফা।" এই জানাজার প্রধান আপনি।
আর আপনি এখানে? একাকি?
.
- খলিফা বললেন, "আমি কবরের কথা শুনছি।"
- "কবরের কথা?"
- হ্যাঁ। তিনি নিচু স্বরে বললেন, সে আমাকে বললো,
"হে ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ, হে মুসলমানের খলিফা,
আপনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন না যে, আমার
কাছে যারা আসে আমি তাদের সাথে কিরূপ ব্যাবহার
করি?"
- আমি বললাম, 'বলো'।
.
কবর বললোঃ "আমি তাদের কাফনের কাপড়ে পঁচন
ধরাই। পরে ফেড়ে ফেলি। তাদের শরীর ছিড়ে ফেলি।
টুকরা টুকরা করে দিই। খুন চুষে নিই। গোশত খেয়ে
ফেলি। আরো শোনো, তার দেহের বাঁধন খুলে ফেলি।
কাঁধ থেকে আলাদা করি হাত। কব্জি থেকে ছিঁড়ে
ফেলি বাহু। রানকে হাঁটু থেকে, হাঁটুকে উরু থেকে
বিচ্ছিন্ন করে দিই।
.
হযরত ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ চুপ করলেন। গভীর
বিষাদের ছায়া পড়লো তাঁর চেহারায়। ভিজে উঠলো
চোখ। গাল বেয়ে গড়িয়ে নামলো নিরব কান্না।
অনেক্ষণ কাঁদলেন তিনি অঝোরে।
.
তারপর কান্না ভেজা স্বরে বললেন, "দুনিয়া দুদিনের।
আর এর ছলনা অনেক বেশি। যে এখানে পেয়ে গেছে
বেশি সম্মান ওপারে তার হবে বেশি অপমান। আজ
এখানে ধনী ওখানে দাঁড়াবে সে ফকির হয়ে। এখানের
যুবক খুব তাড়াতাড়ি হয়ে যায় বুড়ো। মৃত্যু লুকিয়ে থাকে
এখানে কাছে। পাশেই। হানা দেয় আচমকা। লুটে নেয়
প্রাণ। এখানের। এখানের প্রাণ হারিয়ে যায় শীঘ্রই।
এই ধোঁকাবাজের প্রতারণায় পড়ো না।
.
তোমরা দেখছো কত তাড়াতাড়ি মুখ ফিরিয়ে নেয়। সে
খুব বোকা যে তার ধোঁকায় পড়ে যায়।
.
বলো, ওইসব নাম করা রাজা বাদশারা আজ কোথায়?
তারা বড় বড় শহর তৈরী করেছিল। কতো মিষ্টি
পানির পুকুর আর ঝরনা খুঁড়েছিল। ফলে ফলে সুশোভিত
বাগান আবাদ করেছিল। সুরমা অট্টালিকা আর
প্রাসাদ রচনা করেছিল। তার ভেতরে বাহিরে
সাজিয়েছিল চোখ ঝলসানো পাথর আর রঙ দিয়ে।
.
কে বাস করে আজ সেখানে? এর স্রষ্টারা আজ কোথায়?
এখানে বাস করে তার উত্তরাধিকার। তাদের পাপ
ছুঁয়ে যায় ঐ মালিককে। এর স্রষ্টারা খুব কম দিন ছিল
এখানে।
.
সব ফেলে চলে গেছে। পড়ে আছে নির্জন কবরে।
সেখানে গাঢ় আঁধার। বাতাস নেই। স্ত্রী-পুত্র পরিজন
নেই। আনন্দ নেই।
.
আল্লাহতায়ালা তাঁর অসীম দয়ার কারণে এইসব
মানুষকে দিয়েছিলেন সুন্দর চেহারা। সুঠাম দেহ।
তারা বুঝতো না যে কোন সময়ে কেড়ে নেয়া হবে
এটা। শয়তান ধোঁকা দিয়েছিল তাদের। তারা জড়িয়ে
পড়েছিলো পাপাচারে। আল্লাহর নেয়ামতকে খরচ
করেছিলো খারাপ পথে।
.
শপথ মহামহিম আল্লাহর! তিনি ওদেরকে দিয়েছিলেন
অঢেল সম্পদ। সেজন্য সবাই হিংসা করতো। তারপরও
ওরা কোন কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেনি। তারা কামাই
করত হারাম রাস্তায়। খরচ করতো পাপের পথে।
.
এখন দেখো! কি অবস্হা ওদের!
মাটি তাদের দেহকে পঁচিয়ে ফেলেছে। খুলে খুলে
পড়ছে হাঁড় থেকে গোশত। বিষাক্ত পোকামাকড় ঢুকে
পড়ছে হাড়ে। তাদের সেই হারাম টাকার কেনা খাবার
থেকে তৈরী শক্তিশালী হাঁড়ের ক্ষমতা শেষ।
.
ওরা এই দুনিয়ার বুকে দামী আর উঁচু পালঙ্কে ঘুমাতো।
বিছানা ছিল নরম। চাদর ছিল কোমল। চারপাশে থাকত
সেবক। চাকর বাকর। সময় আসতো ঘুমের। হাত পা টিপে
দিত। নরম কোমল উঁচু দগ্ধ ফেফনিভ বিছানায় তলিয়ে
যেত ঘুমের দেশে।
.
এরা ছিল ধনী। তাই দিনরাত এদের চারপাশে
চাটুকারেরা ঘুরে বেড়াতো। মন জোগাতো।
.
আর আজ? সেদিন আর নেই। এখন ওদের জিজ্ঞাসা
করেরে দেখো কেমন আছে ওরা? চিৎকার করে
জিজ্ঞাসা করো। কি করে গরীবদের নোংরা শরীরের
সাথে এখন পড়ে আছে মাঠে?
.
প্রশ্ন করো, "ধনীরা! কি আজ এসেছে তোমাদের ধন?"
প্রশ্ন করো, "হে দরীদ্র! বলে। কী ক্ষতি হয়েছে আজ
সম্পদ যে পাওনি?" দেখ এখন কি অবস্হা ওদের?
. .........
"আল্লাহ আমাদের সহীহ বুঝ দান করুন। আমিন।।"
# সূত্রঃ "মৃত্যুর ওপারে।" (পৃষ্ঠাঃ ১০-১২)
# বর্ণণায়ঃ মাওলানা তারিক জামিল।