ভালোবাসা চলিতেছে
আমাদের দু’জনের মধ্যে প্রথমে ভাইবোনের সম্পর্ক
ছিল। তারপর ফেসবুকে বন্ধুত্ব হয় ২০১৫ সালের ১৪
ডিসেম্বর। আমাদের প্রথম ঝগড়া হয় ১৬ই ডিসেম্বর। ঝগড়ার
কারণটা খুব হাস্যকর ছিল, ফেসবুকে ছবিতে কমেন্ট করা
নিয়ে। সেই রাগ-অভিমান থেকে ১৬ ডিসেম্বরের পর আমরা
আর কথা বলিনি। আমরা আবার কথা বলা শুরু করি ২৯ ডিসেম্বর
২০১৫ রাত ১২টা ১৮ মিনিটে। তারপর আমরা প্রতিদিন কথা বলতাম।
এভাবে এক মাস যাওয়ার পর আমাকে সে প্রথম প্রপোজ
করে ১২ ফেব্রুয়ারি। ফার্স্ট টাইম আমি রাজি হইনি। কারণ
আমাদের দু’জনের দূরত্ব ছিল অনেক বেশি। আমি থাকি রংপুর
আর আতিফ গাজীপুরে। এটা ভেবেই আমি প্রথমে রাজি
হইনি। তবে আমদের মাঝে কথা থেমে থাকেনি। আমরা
অনবরত কথা ববলতাম।
এক সময় আমরা অনেক বেশি ফ্রি হয়ে যাই। দু’জনের
মনের সব কথা শেয়ার করতে থাকি। এক সময় আমি ওর প্রতি
দুর্বল হয়ে পড়ি। আর বুঝতে পারি তাকে ছাড়া থাকতে পারব না।
তাকে আমি ভালোবেসে ফেলেছি। তখন নিজেকে
কন্ট্রোল না করতে পেরে নিজের মনের কথা জানিয়ে
দিই। আর সেটা ছিল ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারির ২৬ তারিখ।
এভাবেই আমাদের প্রেমকাহিনি শুরু। ভাইয়া-আপুর সম্পর্কটা
আর থাকলো না। এক সময় ওটা উধাও হয়ে গেল। শুরু হলো
সম্পর্কের নতুন অধ্যায়। পুরোদস্তুর প্রেমিক-প্রেমিকা
হলাম আমরা। তারপর দীর্ঘ ৮ মাস পর আমরা দেখা করি। তারিখটা
ছিল ওই বছরের ১০ নভেম্বর।
আতিফ গাজীপুর থেকে রংপুর চলে আসে আমাকে
দেখতে। এখনো আমাদের ভালোবাসা চলছে সেই
প্রথম দিনের মতো। কমেনি একটুও, বরং বেড়ছে।
অনেকে মনে করে, ফেসবুকের ভালোবাসা দু’জনের
দূরত্ব আর টাইম পাস। কথাটা ঠিক নয়। যদি দু’টি মানুষ ঠিক থাকে।
একে অপরকে চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করে
ভালোবাসে তাহলে সৃষ্টিকর্তাই একদিন তাদের মিলন ঘটিয়ে
দেবে। ভেবে দেখুন, আতিফ আর আমার মাঝে এতো
দূরত্ব থাকা সত্ত্বেও আমাদের দেখা হলো। একে অপর
আমরা নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসি জন্যই আমাদের দেখা
হয়েছে। আর এখন পর্যন্ত ভালোবাসা টিকে আছে।
সারাজীবন থাকবে, ইনশাল্লাহ্।