"লেখিকার সৃষ্টি" - লেখা:-ফারজানা

"আপনি কি জানেন?আপনি একজন ঠান্ডা মাথার
খুনি"।
ফেবুতে মেসেজটা পেয়ে আমি চমকে গেলাম।কি খুন
করলাম আমি?
সঙ্গে সঙ্গে রিপ্লে দিলাম,
-কি খুন করেছি আমি?
-মানুষ,
-কি??
-হ্যাঁ,আপনি খুব সুক্ষ্মভাবে হাসি খুশি মনে মানুষ খুন
করেন।
আমি অবাক না হয়ে পারলামনা।কে এই লোক।যে
এভাবে আমাকে হেরার্স করার চেষ্টা করছে?খানিক
ভয়ও পেয়ে গেলাম।
কাঁপাকাঁপা হাতে আবার রিপ্লে করলাম,
-আমি মানুষ খুন করি?যে মেয়ে আজ পর্যন্ত কোনো
মশা মারতে পারিনি সেই আমি কিনা মানুষ খুন
করি??
-হুম করেন।আপনি একটা সাইকো প্রকৃতির মেয়ে!!
এই লোকটার কথা শুনে আমার রাগ চরম পর্যায়ে।এমন
লোককে কি বললে উচিত শিক্ষা হবে আমি তা ভেবে
পাচ্ছিলাম না।
লোকটা আবার মেসেজ দিলো,
-কেন করেন বলুনতো?আপনি কি জানেন না আপনার
এমন খুনাখুনিতে আমরা সাধারণ মানুষরা কষ্ট পাই যে?
-আচ্ছা আমি কাকে খুন করেছি??
-আপনি দু'দিন আগে চারুকে খুন করেছেন,এর আগে আরো
অনেককে খুন করেছেন।হ্যাঁ আপনি খুনি,আপনি একটা
সাইকো।আপনি কলমের সুক্ষ্ম আঘাতে মানুষ খুন করেন।
লোকটা এরকম মেসেজ দেখে আমি হাসবো নাকি রাগ
আরো বাড়াবো বুঝতে পারছিলাম না।তবে এতক্ষণে
বুঝলাম উনি আমার লেখা গল্পের চরিত্র গুলোর কথা
বলছে।আমার "চারুলতা"গল্পের চারু মারা গিয়েছিলো।
তাই উনি এভাবে আমাকে দ্বিধায় ফেলে দিলেন।
রিপ্লে দিলাম,
-আপনার কথা এতক্ষণে বুঝতে পারলাম আমি।
-বুঝবেনই তো।আপনি তো খুব ট্যালেন্ট।অনেক ভালো
লিখেন আপনি।আমি আপনার লেখার বিরাট ভক্ত।
কিন্তু মাঝে মাঝে কেন যে গল্পের নায়ক কিংবা
নায়িকাকে মেরে ফেলেন বুঝিনা।আমি এমন
বিয়োগাত্মক গল্প সহ্য করতে পারিনা।খুব কষ্ট হয়।
-দেখুন আমি তো সব গল্পে এমন বিয়োগাত্মক থিম
রাখিনা।কিছুকিছু গল্পে রাখি।
-কেন রাখেন??সব গল্পে হ্যাপি ইন্ডিং রাখবেন।
লোকটার মেসেজ দেখে দ্বিতীয়বার হাসলাম আমি।
আবার রিপ্লে দিলাম,
-সব গল্পের হ্যাপি ইন্ডিং হয়না ভাইয়া।সব মানুষের
জীবন কি সুখের হয়?সব ভালোবাসার মানুষগুলো কি
সুখে থাকে?সব ভালোবাসার পরিণতি কি সুখের হয়?সব
ভালোবাসার কি হ্যাপি ইন্ডিং হয়?হয়না তো
ভাইয়া।কখনই হয়না।তেমনি সব গল্পেরও হ্যাপি ইন্ডিং
হয়না।
-তাই?
-হুম।বঙ্কিমচন্দ্রের "কপালকুন্ডলা" পড়েছেন?
-না,তবে কাহিনীটা শুনেছিলাম।ছোট ভাইয়ের কাছে।
-শেক্সপিয়ারের "রোমিও জুলিয়েট" পড়ছেন?
-হুম,পড়েছি।
-গুড!!"কপালকুন্ডলা" উপন্যাসের নায়িকা কপালকুন্ডলা
শেষ পর্যন্ত মারা গিয়েছিল।শুধু নায়িকা নয়,নায়ক
নবকুমারও নায়িকার সঙ্গে সলীল সমাধিত হয়েছিল।
তাহলে বুঝতেই পারছেন,উপন্যাসটার হ্যাপি ইন্ডিং
হয়নি।কিন্তু তবুও এটা একটি রোমান্সধর্মী স্বার্থক
উপন্যাস।"রোমিও জুলিয়েট" উপন্যাসে রোমিও এবং
জুলিয়েট বিয়ে করেও একসঙ্গে ঘর সংসার করতে
পারেনি।শেষ পর্যন্ত দু'জনকেই মরতে হলো।কিন্তু এই
উপন্যাসটাও শেক্সপিয়ারের শ্রেষ্ঠ রচনা সমগ্রের
মধ্যে একটি।তাহলে বু্ঝুন সব গল্প হ্যাপি ইন্ডিং'এ
মানায়না।হয়তো আপনি মেনে নিতে পারেননা।এটা
আসলে অনুভূতির প্রবলেম।
-অনেক কিছুইতো জানেন আপনি!!
-আপনি আমাকে ট্যালেন্ট বলেছেন।তাই তার মান
রাখলাম।
-আপনি আসলেই খুব ভালো লিখেন।তবে বিয়োগাত্মক
গল্প কম লিখলে হয়না?
-দেখুন আমি টুকিটাকি লিখি।আমার স্বপ্ন আমি
প্রতিষ্ঠিত লিখিকা হবো।আমার মনে যখন যে অনুভূতি
জাগে,যখন যে দৃশ্যপট ফুঁটে ওঠে সেটাই লিখি,সেই
শিল্পটাই সৃষ্টি করি।কারো ভালো লাগবে,কারো
ভালো লাগবেনা।এটাই তো স্বাভাবিক।তাই নয় কি??
-হুম বুঝলাম।আপনার সৃষ্টি গুলোকে আমি সম্মান
জানাই।ধন্য হোক লেখিকার সৃষ্টি।
-ধন্যবাদ।
(সমাপ্ত)

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url