***ক্যান্সার***

জামাল সাহেব একটি মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানির
মালিক।
সময় এবং কাজ উভয় ক্ষেত্রে যথেষ্ট সচেতন তিনি।
এর ফলে খুব অল্প সময়েই তার ব্যাবসা প্রতিস্ঠানের
সাফল্য আকাশ ছোয়া।তার আদর্শবান নীতির জন্য
সকল মহলেই সে ভূয়সী প্রসংসা পায়।
.
জামাল সাহেবের সাফল্যের অন্যতম দাবিদার হচ্ছেন
কামরুল।
জামাল সাহেবের অতি বিশ্বস্ত লোক সে।যে
কোনো কাজে সবার আগে কামরুল আছে।কামরুল
কে সবাই সৎ আদর্শবান হিসেবেই জানে।জামাল
সাহেব যে কোনো কাজেই কামরুল এর উপর
ভরসা রাখে।
অফিস সহ সকল মহলে নিজের ভালো প্রভাব তৈরী
করে নিয়েছে কামরুল
.
অহনা জামাল সাহেবের একমাত্র মেয়ে।
আমেরিকা থেকে পড়া-লেখা শেষ করে দেশে
ফিরেছে।
উদ্দেশ্য নিজ পায়ে দাড়াবে।তাই বাবার অফিসে
যোগদান করলো।
তবে তার বাবাকে বলে দিলো যাতে কাউকে তার
আসল পরিচয় না দেয়।
.
অত:পর অফিসে যোগদান করলো অহনা।প্রথম
দিনেই আসল পরিচয় ফাস হবার উপক্রম হয়েছিলো।
অফিসে একটি কাজ বুঝার জন্য কামরুলের কাছে
গিয়েছিলো।
অহনা:আসতে পারি?
কামরুল:হ্যা।আসুন।
:আমাকে এই প্রজেক্ট টা একটু বুঝিয়ে দেন।
:হ্যা অবশ্যই।
(প্রজেক্টের কাজ বুঝানো শেষ হলে।)
কামরুল:আপনাকে অফিসে নতুন মনে হচ্ছে।
অহনা:হ্যা।আজই যোগ দিলাম।
:ওহ!কোথা থেকে এসেছেন?
:এইতো পাশেই আমার বাসা।
:হুম।কাজ ভালো করে বুঝে নিবেন।আমাদের মালিক
কিন্তু কাজের ব্যাপারে খুব ই সচেতন।
:সেটা জানি।
:একদিনেই সব কিছু জেনে নিয়েছেন।
:হ্যা।জা----(মুখ ফস্কে প্রায় নিজের বাবার নাম
বেরিয়ে গিয়েছিলো।)
:কি?
:না কিছু না।এখন আসি।
:ওকে।
এভাবেই কাটতেছিলো তাদের দিন।
এবার জামাল সাহেব ঠিক করলেন তার মেয়ের বিয়ে
দিবেন।তাই উপযুক্ত পাত্র খুজতে লাগলেন।
অবশেষে ঠিক করলেন কামরুলের সাথে অহনার
বিয়ে দিবেন।
.
অহনার সাথে কথা বলে জানতে পারলেন অহনার
কোনো আপত্তি নেই।
অহনা কামরুলের কথা জেনে খুশি মনেই রাজি হলো
এবার কামরুলের মতামত নেয়া দরকার।
জামাল সাহেব কামরুল কে ডেকে পাঠালেন।
কামরুল:স্যার,আসতে পারি?
জামাল সাহেব:হ্যা আসো।তোমার সাথে কিছু কথা
আছে।
:জ্বী স্যার বলুন।
:তুমি জানো অহনা কে?
:আমাদের অফিসের একজন।
:হ্যা তাতো অবশ্যই।অহনা আমার মেয়ে।
:ওহ!জানতাম না স্যার।
:হ্যা অহনাই বলেছিলো কাউকে না বলতে।
(আরো অনেক কথা বলার পরে)
জামাল সাহেব:আমি ঠিক করেছি তোমার সাথে
অহনার
বিয়ে দেবো।তোমার মতামত কি?
কামরুল:দু:খিত স্যার।আমি বিয়ে করতে পারবো না।
:কেনো?(গম্ভীরভাবে)
:স্যার পরে জানতে পারবেন।
এই বলে কামরুল বেরিয়ে গেলো অফিস
থেকে।
.
২ দিন হয়ে গেলো কামরুলের কোনো খোজ
নেই।
বিজেলে জামাল সাহেবের বাসায় একটি চিঠি এলো।
কামরুলের চিঠি।
চিঠি টা পরে জামাল সাহেব এবং অহনা দুজনেই
বাকরুদ্ধ।
চিঠির সারমর্ম ছিলো এটা।
"কামরুল ক্যান্সারে আক্রান্ত একজন।তিলে তিলে
মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
যেদিন অহনার সাথে বিয়ের কথা বলা হয়েছিলো তার
পরের দিন কামরুলের অপারেশন করার কথা"।
একটু পরে কামরুলের বাসা থেকে ফোন
আসলো।খবর পেলো কামরুল আর পৃথিবীতে
নেই।ক্যান্সার তাকে নিয়ে গেছে পরপারে।
.
জামাল সাহেব যেনো নিজেকেই নিজে বিশ্বাস
করতে পারলেন না।
কামরুল নিজে মৃত্যুর দিকে গেলেও তার কাজে
কখনো তার প্রভাব পরে নি।কাউকে কোনোদিন ও
কিছু বুঝতে দেয় নি।জামাল সাহেব আর অহনা দুজনেই
পুরো নিস্তব্ধ,হতবাক হয়ে গেছে কামরুলের কথা
জেনে।
[বি:দ্র:গল্পটি গুছিয়ে লিখতে না পারার জন্য
আন্তরিকভাবে দু:খিত]
[কল্পকৃত]
.
------K.H.TUSHAR

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url