[■] পৃথিবীর সকল মাকে জানাই হাজার সালাম. . .

এই গল্প লিখে কেঁদেছি নিজে
হুম আমি কেঁদেছি
সাঁঝ সকালে ঘুমাচ্ছিলাম।
এমন সময় পিয়াসের ফোন।
মেজাজটাই খারাপ হয়ে গেলো আমার।
তবু যেহেতু আমার প্রাণপ্রিয় বন্ধুর
ফোনটা রিসিভ করতেই হলো ।
পিয়াস~হ্যালো ফজল ,কই তুই?
ফজল~বাসায় ঘুমাচ্ছি।
ফোন দিয়েছিস কেনো সেটা বল?
পিয়াস~দোস্ত একটু তুহিন মামার
দোকানে আসবি???
পিয়াসের কন্ঠটা কেমন ভারী মনে হচ্ছে।
ভাবছি আমি কি হলো পিয়াসের!
তবু ভাবতেছি আমাকে ফাঁদে
ফেলার ফন্দি না তো আবার??
পিয়াস~কি ব্যাপার দোস্ত চুপ কেন?
আমি মজা করতেছি না খুব সিরিয়াস দরকার আছে।
ফজল~আমি বললাম কি দরকার বল?
পিয়াস~ফোনে বলা যাবে না।
তুই বাসায় বলে আয় যে বাসায় ফিরতে
লেট হবে।
বলবি জুলিয়ার বার্থডে ,
আন্টি যেতে বলেছে।
ফজল~ওকে! কিন্তু কেন?
পিয়াস~যা বলছি তা কর প্লিজ।
তাড়াতাড়ি আয় ভাই
ফজল~আচ্ছা ৫মিনিটের মধ্যে
আসতেছি।
তবে শর্ত হচ্ছে আমার সব
খরচ তোর।
মানি ব্যাগের হাল ভালোনা।
শুকনা ,চ্যাপ্টা হয়ে আছে
পিয়াস~আচ্ছা আয় তুই।
.
.
১০মিনিটের মধ্যে বের হলাম।
গিয়ে দেখি পিয়াস বসে আছে।
চোখ দেখেই দূর থেকেই বুঝতে
পারলাম আসলেই সিরিয়াস কিছু
হয়েছে।
ফজল~জি জনাব।
আপনি কি ছেকা খেয়েছেন নাকি?
পিয়াস~তোর নানীরে খাইছি।
একজায়গায় নিয়ে যাবো তোকে।
কোথায় নিয়ে যাচ্ছি ,কেনো
নিয়ে যাচ্ছি তা জিঙ্গেস করবি
না তুই।
গেলেই বুঝতে পারবি।
সব বলবো তোকে আজ।
ফজল~যে সারাদিন মানুষকে হাসায়
আজ তার মন খারাপ।
দেখতেই বিদঘুটে লাগছিলো তাকে।
তাই তাকে আর ঘাটালাম না।
তার কথা মতোই রইলাম।
বাসে উঠলাম।
কিছুক্ষণ পর আমরা একটি গ্রামে এসে
পৌছালাম।
রাত বাজে ৭টা।
রাত বললাম কারণ গ্রামাঞ্চলে
শীতের সময় সাতটা বাজতেই
অনেকটা নিরব হয়ে যায়।
দুজন মিলে একটা বাউন্ডারির
সামনে দাড়ালাম
পিয়াস~এটা একটা কবরখানা।
চল ভিতরে যাই।
ফজল-আমি তার কথায় পুরোপুরি শকড
হয়ে দাঁড়িয়ে আছি।
সে আমার হাত ধরে কবরখানাটার
ভিতরে নিয়ে গেলো।
আমি গেলাম অনিচ্ছাসত্তেও।
পিয়াস তার চোখদিয়ে ইশারা
করে বললো ,
ঐযে দেখছিস
ওখানটাতে আমার আম্মু ঘুমিয়ে আছে।
আমি তো পুরা অবাক।
মাল টাল খাইছোস নাকি ???
তোর মাকে তো কালকেও দেখলাম
পিয়াস~হুম দেখেছিস ,
তবে এখানে যিনি উনি আমার
জন্মদাত্রী।
আমি যখন ৩ মাস ১৭দিনের তখন
আমার আম্মু আমাকে
ছেড়ে চলে আসছে এখানে।
~আমি তার কথা গুলো বিশ্বাস করতাম না।
তবে বিশ্বাস করলাম যখন দেখলাম
পিয়াস কাঁদছে।
এক বছর ধরে চিনি আমি পিয়াসকে।
কোনোদিন তাকে এই অবস্থায় দেখি নাই।
পিয়াস বললো , বর্তমান আম্মুকে আব্বু
বিয়ে করেছে যখন আমার বয়স ৫বছর।
বিয়ে করতো না আব্বু
শুধুমাত্র আমাকে মানুষ করার জন্যই
বিয়ে করেছে।
সৎ মা রা সাধারণত যেমন হয়
তেমনটা আমার বর্তমান আম্মুটা না।
আমার এই আম্মুও অনেক ভালো।
তবে এই আম্মুর সবকিছু সাজানো।
মন থেকে না।
আদর করে ঠিকই তবে মায়ের আদর
কি তা আমি পাই নি কোনোদিন ,
সত্যি বলতে কোনদিন আশাও করিনি।
যতটুকু করে ততটুকু কোন সৎ মা করে না।
তবে কষ্ট কি জানোস বন্ধু??
ফজল~হুম কি?
[এর চেয়ে কিছু বলার ভাষা আমার
নেই]
পিয়াস~তোদের যেমন আন্টি শাসন করে,
আমি তেমনটা পাই না।
তোর যেমন অসুস্থ হলে আন্টি
সারারাত জেগে থাকে আমার মা কষ্ট করে,
তবে মন থেকে না।
তোদের যেমন আন্টি ভালো মন্দ
বলে আমার মা তেমনটা করে না।
আমি ভুল করলেও আমি ঠিক।
ঠিক করলেও ঠিক।
আমার মনের কষ্টগুলো বলার মতো
কেউ নেই।
পৃথিবীতে সবচেয়ে আপন মা।
আমি আমার মনের কষ্টগুলোর কথা
বলতে পারতাম
আমার ফ্যামিলির কাছে তবে বলি না
কারণ আমি চাই না তারা আমার
কথা কষ্ট পাক।
আমি আমার মা হারানোর বেদনার কথা
কাউকে বলি না দেখে আমার
ফ্যামিলির মানুষ জন এমনকি
আমার বাবাও বলে আমি নাকি পাষাণ!!!
কিন্তু দেখ, আমি যদি আমার চোখের
জলগুলোকে তাদের সামনে হাসি
দিয়ে আটকিয়ে না রাখতাম তবে তো
আমার বাবা আরো কষ্ট পেতো ,
আমার এভাবে ভেঙ্গে পড়া দেখে।
তবে বল কেনো আমাকে তারা
পাষাণ বলে?
আমাকে কেনো ফুর্তিবাজ বলে?
ফজল~আমি কিছু বলতে পারলাম না।
একসময় দেখলাম পিয়াস
আমাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছে।
আমিও নিজেই কেদেই দিতাম তবু
আমি কাদলাম না।
দাঁত দিয়ে ঠোট কামড়ে নিজের
চোখের জল সংবরণ করলাম।
কারণ পিয়াসের কাছ থেকে মাত্রই
আমি শিখলাম,
অপরের কষ্টের মাঝখানে নিজের
ভেঙ্গে পড়তে নেই।
নিজেকে তখন পাষাণ হতে হয়।
তবু পারলাম না পুরোপুরি অজান্তে
চোখ থেকে কিছু একটা পড়ল আমার
কিছুক্ষণ সব চুপ ,আমি চুপ ,পিয়াস চুপ ,
ঝিঁ ঝিঁ পোকারাও চুপ।
একসময় পিয়াস উঠে দাঁড়ালো।
দুজন মিলে কবর জিয়ারত করলাম।
>ফেরার সময় আবার পিয়াসকে আগের
রূপে ফিরে পেলাম।
কিন্তু আমি স্বাভাবিক হতে
পারছিলাম না।
আমি যে পিয়াসের মত অভিনেতা নই....
এই পিয়াসকে চেনা খুব কষ্ট
এরা দিনে সবাইকে হাসিয়ে
রাতে চুপসি সারে কাঁদে।
পিয়াস কিভাবে পারে এগুলা
তা আমার অজানা।
. .
বাহিরেই খেলাম আমি আর পিয়াস।
যখন বাসায় আসলাম দেখলাম রাত
বারোটা বাঁজে।
সবাই ঘুমিয়ে গেলেও দেখি আমার
মা জননী ঠিকই জেগে আছেন।
আমাকে শুইয়ে দিয়ে তারপর ঘুমাতে
গেলেন।
নিজেকে খুব সৌভাগ্যবান মনে হচ্ছে।
কারণ আমার মা আছে ,
যার কাছে আমি সাত খুন করেও
মাফ পেয়ে যেতে পারি।
যার কাছে ভাতের চামচের
বাড়ী খেয়ে কাঁদতে পারি ,
তার কাছেই তার হাতে ভাত খেতে
পারি।
যার কাছে কিছু চাওয়ার আগেই
সব পেয়ে যাই আমি.....
পৃথিবীতে এমন অনেক মানুষ
আছে যাদের হাসির আড়ালে
লুকিয়ে আছে একরাশ হতাশা।
কিসের অস্কার পাওয়া অভিনেতা!
তারাই যে সবচেয়ে বড় অভিনেতা .
.
.
এই জগতে যাদের মা নেই তাদের মত
দুর্ভাগা আর নেই।
তারা চির দুঃখী।
বাবা ছাড়া হয়তো আর্থিক অসুবিধার
সম্মুখীন হতে হয়
তবে মা মারা গেলে সন্তান এই শত
শত কোটি মানুষের মধ্যে একাকী হয়ে পড়ে।
তার এই একাকীত্ব দূর করতে পারে
না কেউ ,
কোনোদিন.
. . .
একটি মুল বিহীন গাছ যেমন তেমনি
মা ছাড়া
সন্তান তেমন।
.
পৃথিবীর সকল মাকে জানাই হাজার
সালাম. . . .!!!
.
_Gm Mostofa Kamal_

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url