✿ অাবেগ নয় বাস্তবতা
---বাস্তবতার সামনে অনেক সময় গড়ে তুলা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র
থেকে শুরু করে সাগর সমপরিমাণ ভালবাসাও অসহায়
হয়ে পড়ে।
.
.
সাধারণ ভাবেই যখন 1টা ছেলে অার 1টা মেয়ে
প্রেমের বন্ধনে অাবদ্ধ হয়।তখন তারা দেখতে থাকে
নানান ধরণের স্বপ্ন।স্বপ্ন দেখে বিয়ের পর কোথায়
হানিমুনে যাবে।বাচ্চার নাম কি রাখবে। বাচ্চাকে
কে বেশি অাদর করবে ইত্যাদি নানার ধরণের স্বপ্ন
দেখে।
.
বাস্তবতার জন্য অনেক সময় দেখা যায় স্বপ্ন গুলো
স্বপ্নই থেকে যায় পুরণ হয়না।
.
.
মেয়েটার বিয়ে হয়ে যায় অন্য একটা ছেলের সাথে।
.
ছেলেটা ভাবে মেয়েটা হয়তো তার সাথে বেইমানি
করল।কিন্তু ভাই ভেবে দেখুন।সে ও তো অাপনাকে কম
ভালবাসত না।অাপনাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখত।
তাহলে সে কেন অজানা অচেনা একটা ছেলেকে বিয়ে
করে।কারণ বাস্তবতা।বাস্তবতার সামনে অাবেগ
অসহায়।
.
মেয়েটার যখন অন্য একটা ছেলের সাথে বিয়ে ঠিক
করে।মেয়েটার হয়তো ইচ্ছে করে সব বাদ দিয়ে
অাপনার কাছে চলে অাসতে।কিন্তু তা অার সম্ভব
হয়না।কারণ বাস্তবতা।
.
যেই বাবা-মা ছোট থেকে এত কষ্ট করে তাকে লালন-
পালন করে।তাদের ছেড়ে কিভাবে অাপনার কাছে
ছুটে অাসবে??
ভেবে দেখুন সে পালিয়ে অাসলে অাপনি একা খুশি
হবেন।কিন্তু কষ্ট পাবে তার পরিবারের সবাই ।
সবাইকে কষ্ট দিয়ে কিভাবে অাপনার কাছে চলে
অাসবে???তাই এসব ভেবে মেয়েটা বাবা-মা'র মুখে
হাসি ফুটাতে অন্য একটা ছেলেকে বিয়ে করতে রাজি
হয়ে যায়।
.
মেয়েটার বিয়ে হয়ে যায়।বিয়ের দিন খৃুব কাদে।বাসর
ঘরেও কাদতে থাকে।মেয়েটার স্বামি হয়তো ভাববে
পরিবার ছেড়ে অাসছে তাই কাদছে। কিন্তু মেয়েটার
কাদার পিছনে লুকিয়ে অাছে হাজার কারণ :
মেয়েটাতো চেয়েছিল তার বাসর হবে তার স্বপ্নের
মানুষটির সাথে। তারা সারারাত খুনসুটি করেই
কাটিয়ে দিবে।অনেক মজা করবে।হ্যা মেয়েটার
সামনে এখন একটা মানুষ দাড়িয়ে অাছে।কিন্তু এখানে
দাড়িয়ে থাকার কথা ছিল তার মনের মানুষটির।কিন্তু
তার মনের মানুষটির কোন অস্তিত্বও এখানে নেই।
এটা মনে করে মেয়েটা কান্না করবে না তো
হাসবে??
.
পরদিন থেকে হয়তো মেয়েটা ব্যস্ত হয়ে পরে তার
নতুন সংসার নিয়ে।অার ব্যস্ত না হয়ে কি উপায়
অাছে?? মেয়েটা হাসি খুৃশি ভাবে সবার সামনে
নিজেকে উপস্থাপন করার চেষ্টা করে।সবাই তার
বাহ্যিক সুখটাই দেখে। ভিতরে যে তার মনটা সবসময়
কাদে সেটা কেউ দেখেনা।
মেয়েটা যখন তার স্বামিকে মাথায় হাত বুলায় দেয়
তখন মনে পড়ে যায় এখানে তো তার সেই মানুষটির
থাকার কথা ছিল....
যখন তার স্বামিকে নিজ হাতে খাওয়াই দেয়।তখনও
মনে পড়ে যায় এখানে তো তার সেই মানুষটির থাকার
কথা ছিল।
.
অফিস থেকে তার স্বামি যখন মাঝে মাঝে মেসেজ
করে মেয়েটা হয়তো মনের অজান্তেই উত্তেজিত হয়ে
যায় মেসেজটা দেখার জন্য। কারণ মেয়েটা'র সাথে
মেসেজের শব্দের কেমন জানি অদ্ভুত একটা মনের মিল
অাছে যে: মেসেজ অাসলেই তাকে রিপ্লে করতে হবে।
কারণ এটা তার অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেছে।কিন্তু যখন
দেখে মেসেজ টা তার সেই মানুষটার না।মনটা তখন
অজান্তেই অাবার কেদে উঠে।হয়তো সেই কান্নাটা
প্রকাশ পায়না।
.
.
.
মাঝে মাঝে সে কি করে জানেন??? মেসেজ লেখে
অনেক বড় করে একটা মেসেজ লেখে..ছেলেটার কাছে
ক্ষমা চাওয়া নিয়ে মেসেজ লিখে।ছেলেটা কেমন
অাছে এটা জানার জন্য মেসেজ লেখে।কিন্তু এত বড়
মেসেজ লিখতে পারে কিন্ত সেন্ড করার শক্তি টুকু
পায়না।অজানা এক বাধা গ্রাস করে ফেলে।যার জন্য
মেসেজ টা অার সেন্ড করা হয়না।
অনেক সময় হাতে ফোনে নেয় ফোন করার জন্য কিন্তু
ডায়াল করতে পারেনা।
.
মেয়েটা যখন জানালা দিয়ে বৃষ্টি দেখে। তখন
মেয়েটার মনে পড়ে যায়।কল্পনার সাগরে তারা কত
যে বৃষ্টিতে ভিজেছে।অাগে জানালা দিয়ে বৃষ্টি
দেখত অার ছেলেটার সাথে কথা বলত।সব মনে পড়ে
যায় মেয়েটার।
এখন সব কেবলই স্মৃতি।
মাঝে মাঝে এসব মনে করে মেয়েটা বালিশ ভিজিয়ে
ফেলে।কিন্তু বাহির দিকটায় তাকে হাসিখুশি
থাকতে হয় ''অামি ভালো অাছি" সবাইকে এটা
দেখানোর জন্য...কিন্তু সত্যিকার অর্থেই কি মেয়েটা
ভালো অাছে????????
.
.
.
.
এখন বলি ছেলেটার কথা: মেয়েটা যখন তার শ্বশুর
বাড়ি চলে যায় ছেলেটা হয়তো তখন নেশা করে
কোথাও অচেতন অবস্খায় পড়ে থাকে।তার ভালবাসার
মানুষটি অন্য কারো হয়ে গেছে এটা সে মেনে নিতেই
পারেনা।
হয়তো কয়েকদিন পর কিছুটা স্বাভাবিক হয় কিন্তু
মনটা সবসময় মেয়েটার জন্য হাহাকার করে।অসংখ্য
মেসেজ ছেলেটার ইনবক্সে জমা,হয়তো সেগুলো পড়তে
পড়তে অাবার সেই অাগের কল্পনার রাজ্যে হারিয়ে
যায়।কিন্তু যখন মনেহয় এই মেসেজগুলো এখন কেবলই
স্মৃতি মানুষটা অার নেই তখন মনটা অাবার কেদে
উঠে।
.
ছেলেটা যখন রাস্তা দিয়ে হেটে যায় হয়তো দেখে
ফুটপাতে অনেকে কাচের চুরি বিক্রি করছে।তখন
ছেলেটার মনে পড়ে যায় অাগে তার সেই মানুষটাকে
অনেকবার নিজ হাতে কাচের চুরি পড়িয়ে দিয়েছিল।
যখন দেখে রাস্তা দিয়ে 1টা ছেলে অার 1টা মেয়ে
হাত ধরে হেটে যাচ্ছে।তখনও তার মনে পড়ে যায়
অাগে কত্তবার যে হাত ধরে হাটছে।
.
ছেলেটা এখন গভির রাতে বাড়ি ফিরে।কিন্তু কেউ
ফোন করে জিজ্ঞেস করেনা...কি ব্যাপার অাজ এত
রাত করে বাড়ি ফিরলে কেন??
ছেলেটা এখন ঠিকমতো খায়না কিন্তু এখন অার কেউ
ফোন দিয়ে বকা দেয়না।
কেউ এখন অার তাকে স্বপ্ন দেখায় না।
কেউ বলেনা বেশি রাত করে ঘুমাবা না।
কেউ বলেনা সিগারেট কম খাবা।
ছেলেটা অাগে হয়তো মাঝে মাঝে এত খেয়াল রাখার
কারণে খুব বিরক্ত হত।কিন্তু অাজ সেই খেয়াল
রাখাটা কে বড্ড মিস করে।
.
.
.
হ্যা ছেলেটাও বেচে অাছে মেয়েটাও বেচে অাছে।
কিন্তু তাদের মনটা কি অাদৌ বেচে অাছে????
.
.
অসংখ্য স্মৃতি জমা হয়ে অাছে তাদের মস্তিষ্কে
কিন্তু সেগুলো কখনো ভুলতে পারবে না।
.
হ্যা তারা অালাদা অালাদা রাজ্যে থাকার পরও
একটা কাজ 2জনেই করতে পারবে।
অাকাশে যখন চাদ উঠবে তখন চাদের দিকে তাকিয়ে
কাদতে পারবে
যখন বৃষ্টি হবে তখন বৃষ্টির তাকিয়ে কাদতে পারবে।
.
.
.
ভালবাসায় এত কষ্ট তারপরো মানুষ ভালবাসে কেন??
.
সারাজীবন বেচে থাকুক সবার ভালবাসা....
.
®Sopnil Khademul ( মন ফড়িং)