⊙ ‘৬৪ জেলার ৬৮ রুটে আমার গাড়ি, যানজটের নায়ক আমি

৬৪ জেলার ৬৮ রুটে আমার গাড়ি চলে। আপনাদের
নাকের ডগার ওপর দিয়ে আমার গাড়ি চলাচল করে।
কদমতলি, বিআরটিসি, সিনেমা প্যালেস,
বহদ্দারহাট, অলংকার, একে খান, কর্নেলহাট,
ফ্রিপোর্ট, বায়েজিদ, পাক্কার মাথা থেকে
আমাদের গড়ি ছাড়ে। এ শহরের যানজটের
ঝঞ্ঝাটের মূল নায়ক আমি।’
রোববার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে যানজট নিরসনের
লক্ষ্যে চসিক-সিএমপি-পরিবহন শ্রমিক
ফেডারেশনের মতবিনিময় সভায় আন্তঃজিলা সড়ক
পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের চট্টগ্রাম বিভাগীয়
কমিটির সভাপতি রুহুল আমিন এসব কথা বলেন।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) সম্মেলন
কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন মেয়র আ জ
ম নাছির উদ্দীন।
আন্তঃজেলা বাসের জন্য টার্মিনাল তৈরির দাবি
জানিয়ে তিনি বলেন, আমি ঢাকায় পরিবহন
শ্রমিক ছিলাম। হেলপারি করতাম। ১৯৬৭ সালে
চট্টগ্রাম আসি। এখন আমি আন্তঃজিলা সড়ক
পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের বিভাগীয় সভাপতি।
প্রতিদিন ১ হাজার ১৫০টি গাড়ি আসে। সমপরিমাণ
গাড়ি যায়। একেকটি গাড়ির দাম ১ কোটি ২০ লাখ
টাকা থেকে দেড় কোটি টাকা। রাস্তার ওপর দাঁড়
করে এসব গাড়িতে যাত্রী তোলা হয়।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন
পূর্বাঞ্চলের সভাপতি মৃণাল চৌধুরী বলেন,
চট্টগ্রামের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে স্বাধীনতার
পর থেকে পরিকল্পিতভাবে টার্মিনাল হলো না।
বিভিন্ন মেয়রের আমলে তিনবার টার্মিনাল
কমিটির সদস্য করা হয়েছে আমাকে। আমাদের বলা
হতো জায়গা খুঁজে বের করুন, কোথায় খাস জমি
আছে। আমি বিশ্বাস করি, টার্মিনাল আপনি
(মেয়র) করতে পারবেন।
তিনি বলেন, বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে শহরে
প্রবেশের মুখে যেমন অক্সিজেন, কাপ্তাই রাস্তার
মাথা, সিটি গেট, কর্ণফুলী শাহ আমানত সেতুর
জন্য মিনি টার্মিনাল গড়ে তোলা দরকার।
খাতুনগঞ্জের জন্য পৃথক টার্মিনাল দরকার। নগরীর
ভেতরে পার্কিং স্পেস চিহ্নিত করা দরকার।
ট্যাংক লরির জন্য বিপিসি টার্মিনাল করতে
তৈরি, কিন্তু বন্দরের অনুমোদন দরকার।
তিনি দক্ষিণ চট্টগ্রামের লক্ষাধিক মানুষের
সুবিধার্থে শাহ আমানত সেতুর দক্ষিণ পাড়ে
কোয়াটার কিলোমিটার হাইওয়েতে তিন চাকার
গাড়ি চলাচলের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান।
দুজনের বক্তব্যের সূত্র ধরে মেয়র বলেন, টার্মিনাল
করতেই হবে। আমি করবোই করবো। একটি নয়
একাধিক টার্মিনাল করবো। শহরের
প্রবেশমুখগুলোতে মিনি টার্মিনালের আইডিয়াটা
ভালো।
তিনি বলেন, আমি দায়িত্ব নেওয়ার সময় চসিক ছিল
একটি সমস্যায় জর্জরিত প্রতিষ্ঠান। আমাদের
পরিকল্পনা বিভাগ পরিপূর্ণ নয়। ছয় মাস ধরে
পরিকল্পনা বিভাগকে কাজে লাগাচ্ছি। কোথায়
পার্কিং স্পেস করবো, কোথায় টার্মিনাল করবো
দীর্ঘমেয়াদি কমপ্রিহেনসিভ প্রপোজল চেয়েছি।
সভায় সড়ক পরিবহন ফেডারেশনের পক্ষ থেকে
উত্থাপিত সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ ও যানযট
নিরসনে অবৈধ গাড়ি চলাচল বন্ধ করা, বিআরটিএ’র
অব্যবস্থাপনা দূর করা, ওজন স্কেলে জরিমানার
নামে দুর্নীতি বন্ধ করা, টার্মিনাল নির্মাণ, বন্দর
কর্তৃপক্ষের জায়গায় বিপিসি’র সাথে সম্পাদিত
চুক্তি অনুযায়ী আধুনিক মানের ট্যাংক লরি
টার্মিনাল নির্মাণ, গাড়ি পার্কিংয়ের স্থান
নির্ধারণ, শ্রম আইন অনুযায়ী গাড়িচালককে
নিয়োগপত্র প্রদান, শাহ আমানত সেতুর উভয় পাড়ে
তল্লাশির নামে হয়রানি বন্ধ করা, মহাসড়কে
বেআইনি চাঁদা আদায় বন্ধ করা, হাইওয়েতে
জ্বালানি ও ক্যামিকেল বহনকারী ট্যাংক লরি
চেকিং বন্ধ করা, নির্ধারিত হারের অতিরিক্ত
টোল আদায় বন্ধ করা, মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত ও
বিআরটিএ’র প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী
রেজিস্ট্রেশনবিহীন সিএনজি অটোরিকশার
রেজিস্ট্রেশন প্রদান, নাম সর্বস্ব সংগঠনের নাম
ব্যবহারকারী চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ,
গণপরিবহন চলাচলে টার্গেট সিস্টেম বাতিল করা,
টার্গেটের অতিরিক্ত খাত দেখিয়ে চাঁদা আদায়
বন্ধ করা, অবৈধ গাড়ি চলাচল ও রুট পরিবর্তনে
কড়াকড়ি বন্ধ করা, রাতের বেলায় শাহ আমানত
সেতু হয়ে মেরিন ড্রাইভ রোড হয়ে নগরে
প্রবেশকারী পণ্যবাহী গাড়ির শ্রমিক নির্যাতন
বন্ধ করাসহ ৯ দফা দাবির বিষয়ে আলোচনা করা
হয়।
সভায় নগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ইকবাল
বাহার, চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা
মোহাম্মদ আবুল হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ
কমিশনার (ট্রাফিক) দেবদাস ভট্টাচার্য,
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসক ও অর্থ) মাসুদ
উল হাসান, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নিরপত্তা
পরিচালক লে. কর্নেল মো. আব্দুল গাফফার, উপ
পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) সৈয়দ আবু সায়েম,
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মমিনুর রশিদ,
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. হাবিবুর
রহমান, বিআরটিএর উপ পরিচালক মো. শহিদুল্লাহ,
জাতীয় শ্রমিক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক
মোহাম্মদ সফর আলী, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন
শ্রমিক ফেডারেশন চট্টগ্রামের সভাপতি
মোহাম্মদ মুছা, সাধারণ সম্পাদক অলি আহম্মদ,
চট্টগ্রাম বাস-মিনিবাস সড়ক পরিবহন শ্রমিক
ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নুরুল হক, হিউম্যান
হলার সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি
সামশুল আলম, চট্টগ্রাম জেলা ট্রাক-কাভার্ডভ্যান
শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবদুচ ছবুর,
চট্টগ্রাম আন্তজেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের
সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জাফর, চসিক প্রধান
নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি রেজাউল করিম,
তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ রফিকুল
ইসলাম, পরিবহন শ্রমিক নেতা আব্দুল নবী লেদু,
মোহাম্মদ নুরুল হক টুটুল, আব্দুল মতিন, সিএনজি
চালিত ট্যাক্সি মালিক সমিতির সভাপতি
হায়দার আজম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক টিটু
চৌধুরী, আব্দুল রশিদ লোকমান প্রমুখ মতামত দেন।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url