⊙ একটা পেত্নীর সাথে বাসর রাত কাটাতে হবে - কি বললি শয়তান!! আমি পেত্নী??

- পেত্নী নয়তো কি!! সেই দাদির আমল থেকে লাল
বেনারসি পড়া বউ দেখতে দেখতে বোর হয়ে গেছি...
আর কত?
- তাই বুঝি?? তো মিস্টার এই পর্যন্ত আপনি কয়টা
বিয়ে করেছেন আর কয়টা বউ দেখেছেন শুনি??
- না ইয়ে মানে, বলছিলাম কি আজকাল লাল শাড়ি
পড়া বউ,কমন না?? পেত্নী কি এমনি বলি??
আইরীন- শুনুন মিস্টার!! এটা ট্রেডিশন... কিচ্ছু করার
নাই বুঝলেন??
- আমি এসব ট্রেডিশন মেডিশন মানি না.. বাসর রাতে
বউ হবে আমার মনের মতন... হুম(বাপ্পি)
- তোমার মনের মত আমি না হলে
বিয়ে করলে কেন?? (অভিমান)
- এই তোমরা মেয়েরা না একটু বেশি বুঝ... বলি কি আর
তুমি বুঝলা কি!
- এই পর্যন্ত কয়টা মেয়েকে পরিক্ষা করেছো শুনি??
- এই বাদ দাও তো!! শাড়িটা খোল(বাপ্পি
আইরিন--- কি অসভ্য বর রে বাবা!! বলা নেই কওয়া
নেই...!! (লজ্জা)
- জ্বি না মেডাম!! আপনি যা ভাবছেন তা নয়... এই
নিন, এই শাড়িটা পড়ে আসুন..
.
("বাপ্পির খুব পছন্দের রঙ সাদা.. তাই সে আইরীনের
জন্য পুতির কাজ করা সাদা শাড়ি নিয়ে এসেছে..")
- আজই আমাদের বিয়ে হল অথচ তুমি আমাকে সাদা
শাড়ি পড়াচ্ছো বাপ্পি ?? আমার ভয় লাগে
- আরে বোকা মেয়ে!! আমিও সাদা পাঞ্জাবি পড়বো..
ভয়ের কিছু নেই... যাও শাড়িটা পড়ে এসো
"আইরীন শাড়িটা নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকলো..বাপ্পি
পাঞ্জাবীটা পড়ে জানালার থাই গ্লাসটা খুলে
বাহিরে দেখছে...
ঘন কালো রাতের উপর জোস্নার উষ্ণ প্রলেপ.
. বাহিরে তাকিয়ে আতিফ ভাবছে সেই দিনগুলোর
কথা...
স্কুল লাইফে পছন্দ করা, এরপর নাম্বার বিনিময়,
মুঠোফোনে লুকিয়ে প্রেম,
শত ঝগড়াঝাঁটি, হাজারও খুনসুটি অবশেষে আজ বিয়ে...
সব কিছুর সাথেই জড়িয়ে আছে এই মেয়েটি..."
.
- উহুম!!
(ছোট করে গলার আওয়াজ শুনে ঘুরে তাকালো বাপ্পি
.. স্তব্ধ বাপ্পি নিষ্পলক তাকিয়ে আইরীনের দিকে)
আইরিন*- এই যে হ্যালো!! অমন করে কি দেখছেন??
- তোমাকে
- গত নয়টি বছর ধরে দেখছো
তাও খায়েস মিটছে না?
বাপ্পি**- আরও মন ভরে দেখতে চাই.. আঁকতে চাই
তোমার ছবি এই মনের ক্যানভাসে..
আইরীন*- ইসস!! কি কবি কবি ভাব!! ইঞ্জিনিয়ার হয়ে
উনি সাহিত্য চর্চা করছেন..
- তোমার জন্য আমি ইঞ্জিনিয়ার থেকে হতে পারি
কবি দেবব্রত সিংহ, নয়তবা নজরুল...
সাহিত্যরসে ভরিয়ে দিতে পারি আমাদের বাসর..
"ওওও পথ চলিতে যদি চকিতে, কভু দেখা হয় পরানও
প্রিয়.."
আইরীন*- থামো থামো.. তোমাকে এত রাতে গান
গেয়ে বাড়ির সবার ঘুম ভাংগানোর দায়িত্ব নিতে
হবে না.. আচ্ছা একটা কথা বলবে??
- কি কথা??
- আমাকে এই লাল বেনারসির বদলে সাদা পুতি
কাজের শাড়ি পড়ালে কেন??
আর তুমিই বা লাল পাঞ্জাবি ছেড়ে সাদা পাঞ্জাবি
পড়লে কেন??
- শুনবে??
- হুম
- চল
- কোথায়??
- ছাদে
- আরে একি করছো বাপ্পি!! পড়ে যাব তো!!
- তুমি পড়লে আমি আছি কি জন্যে??
.
(এই বলে আইরীন়কে কোলে তুলে নিল বাপ্পি
.. আজ তাদের বিয়ের প্রথম রাত..
এটুকুন খুনসুটি না হলে যে তাদের এতদিনের প্রেমের
বৃথা জলাঞ্জলি হবে..
দুজনই ছাদের রেলিং ধরে দাড়ালো..
মৃদু বাতাসে আইরীনের চুলগুলো উড়ছে..
. ভরা চাঁদের আলোতে আইরীনের সাদা শাড়িটা আরও
সাদা লাগছে...
পুতির কাজগুলো জোস্নার আলোয় চিক চিক করছে...
বাহুবন্ধি করে বাপ্পি তার অনন্ত যৌবনাকে মনের
মাধুরী মিশিয়ে দেখছে আর ভাবছে সেই সাদা জামা
থেকে আজ সাদা শাড়ি পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময়টা তার
জীবনে এক সুখের সুনামির সময়কাল...)
.
- কি ভাবছো বাপ্পি??
- সেই দিনগুলোর কথা... কতটা দস্যিপনা ছিলে তুমি,
সেই চঞ্চল মেয়েটি আজ আমার বউ..
আইরীন- আমারও ভাবতে অবাক লাগছে সেই লাজুক
হাবাগোবা ছেলেটি আজ আমার বর,
তাও আবার কাব্যিক বর!!
- জানো আইরীন, আজ তোমাকে কেন সাদা শাড়ি
পড়ালাম??
- কেন?? (আকাঙ্খার সুরে)
- এই সাদাই তোমার প্রেমে আমাকে ডুবিয়েছে…
সবুজ মাঠে তুমি যখন সাদা জামা পড়ে বান্ধবীদের
সাথে মনের মাধুরী মিশিয়ে হাসছিলে,
তখন আমি স্কুলের বারান্দার সিমেন্ট খসা পিলারের
সাথে হেলান দিয়ে তোমাতে মিশে গিয়েছিলাম…
আর ভাবছিলাম তুমিই বুঝি আমার সেই স্বপ্নের পরি…
অবশেষে তাই হল…
তোমার সাদায় এতটায় ডুবে ছিলাম যে,
আমার ময়লা সাদা শার্টটা পড়েই তোমার সাথে
প্রথম দেখা করেছি…
মনে পড়ে তোমার? সেদিন অনেক বৃষ্টি ছিল… তুমি
আমার জন্য অনেক্ষন দাঁড়িয়ে ছিলে…
দুজনেই সেদিন ভিজে চুপসে গিয়েছিলাম…
পরে অবশ্য শার্টটায় বৃষ্টির দাগ পড়েছিল অনেক… আর
তাই আজকের এই দিনে আমি সেই দিনগুলোতে ফিরে
যেতে চেয়েছি,
তাইতো তোমাকে সাদা শাড়ি পড়ালাম আর আমি
সাদা পাঞ্জাবি…
দুজন দুজনকে যেমন সাদায় প্রথম দেখেছি ঠিক আজও
জীবনের আরেকটি অধ্যায়ে সাদাতেই দেখবো…
- এভাবে আমায় সারা জীবন দেখে যাবেতো বাপ্পি??
- নাহ! কাজের লোক নিয়োগ দিব তোমাকে দেখার
জন্য…
ওই যে, যে ছেলেটা ভালোবেসে তোমার ব্যাগ থেকে
রুমাল চুরি করেছিল, তাকে…
- কি বললা…! আজকে রাতেও তুমি আমাকে ক্ষ্যাপাবা
বাপি ?? আমি কিন্তু ছাদ থেকে চলে যাব
- যাওনা দেখি যেতে পার কিনা
- ইশশ! বড্ড অধিকার হইসে না??
- অধিকার এর দেখেছো কি?? (কছে টেনে)
আইরীন*- এই লুচ্চা ছাড় বলছি…
- এই মেয়ে! আমি লুচ্চা??
- তো নয়ত কি?? কারও সামনে কেউ এসব করে??
- কই! এখানে তো কেউ নেই?
- হাদারাম!! আকাশের দিকে দেখো,
চাঁদটা দেখছে…
- দেখুক!! তাতে কি?? চাঁদটাতো সেদিনও ছিল আকাশে
যেদিন রাতে লুকিয়ে আমার সাথে দেখা করেছিলে…
গানের শব্দ ভেসে বেড়িয়েছিল বাতাসে…
সেদিন কি দুজন মিলে এক হইনি?
- তবুও! (লজ্জা)
- আজ আমাদের কলংকের সাক্ষি হবে ওই কলঙ্কিনী
চাঁদ…
হাতটা দাও
- ধরে নাও
… দুজনেই নীরব! ভালোবাসার উষ্ণতায় চারপাশ
থমথমে... আইরীন কাধে বাপ্পির হাত..
দুজনই জোস্নাভরা চাঁদটার দিকে তাকিয়ে...
সহস্র বছর সাক্ষি থাকুক ঐ চাঁদ তাদের নিশ্চুপ
ভালোবাসার...।
সমাপ্তি
বিঃদ্রঃ ফ্রেন্ডস ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে বিশ্ব
ভালবাসা দিবস--যদিও ভালবাসার জন্য স্পেশাল
দিনের প্রয়োজন হয়না তবু আমি এই দিনের বিরুদ্ধে
নয়,,কিন্তু আমাদের সমাজে এই দিনটাকে কেন্দ্র করে
অনেক কিছু হচ্ছে।
তাই সকল প্রেমিক প্রেমিকাদের উদ্ধশ্যে বলছি।
আসুন ভালবাসাকে সম্মান করি,ভালবাসার নামে
বেহায়াপনা থেকে নিজেকে মুক্ত রাখি--
ভালবাসার মানুষকে ভালবেসে বেধে রাখি

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url