রজনী - কৃষ্ণ চন্দ্র মজুমদার
যে কালে রজনী, নিদ্রা স্বজনীর সনে,
আবির্ভূতা হয় আসি অবনী-ভবনে,
যে কালে সুমন্দ গতি করিয়া ধারণ
জুড়ায় জগত-প্রাণ জগত-জীবন,
যে কালেতে সীমাশূণ্য আকাশমন্ডল
অসংক্ষ তারকাজালে হয় সমুজ্জ্বল,
যে কালে বিরল ক্ষুদ্র, জলধর দলে
অনতিবেগেতে ধায় গগন-মন্ডুলে,
যে কালে যামিনীনাথ সুধাময় করে
ধরণীর তপ্ত তনু সুশীতল করে,
যে কালে নিরখি স্বীয় প্রিয় প্রাণেশ্বরে
কুমুদিনী প্রফুল্লিত হয় সরোবরে,
যে কালে অমৃকপায়ী চকোর-নিকরে
সুধা পিয়া প্রিয়গুণ গান কলস্বরে,
যে কালে রজনী পরি চন্দ্রিকা-বসন,
স্বকান্তের সনে করে প্রিয় সম্ভাষণ,
যে কালে প্রকৃতি করি ধীরতা ধারণ
ভাবুকের ভাবপুঞ্জ করে উদ্দীপন,
যে কালে কোবিদকুল কল্পনার সনে
রত হয় নব নব সদ্ভাব-চিন্তনে,
ধিক ধিক বৃথা কার মানব জনম
এ কালে অলীকামোদে মত্ত যার মন।
ভবের ভাবের ভাবুক যে বা নয়,
নিদ্রায় বিমুগ্ধ সেই রহে এ সময়।
এ সময় ভক্তি-রস-প্রবণ অন্তরে,
ধন্য সে, যে স্মরে অখিল ঈশ্বরে।
বিবেক-আসনে হয়ে সমাসীন মন!
এ সময় স্মর না সে সংসার-শরণ?